হিজাব সম্পর্কে এমন সব তথ্য রয়েছে যা অনেকেই হয়ত জানেন না

হিজাব সম্পর্কে এমন সব তথ্য রয়েছে যা অনেকেই হয়ত জানেন না। সারা বিশ্বজুড়ে লক্ষ-কোটি নারীরা ব্যবহার করে থাকেন এই হিজাব। কিন্তু একইসাথে ইসলাম নিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে নেতিবাচক ধারণা বিরাজ করায় এর প্রভাব পড়েছে মহিলাদের মাথার হিজাবেও। আমাদের মধ্যে কতজন সঠিক জ্ঞান রাখেন এই হিজাব নিয়ে? আর কারো বসবাস যদি হয় ওয়েষ্টার্ন ওয়ার্ল্ডে, তাহলে তো কথাই নেই। তাই আজ আপনাদেরকে জানাব হিজাবের আদ্যোপ্রান্ত শুরুর কথা। শুরুর দিকে বেশীর ভাগ মানুষ হিজাবকে ইসলামী সংস্কৃতির অংশ মনে করত। অথচ এর ব্যবহার কিন্তু ইসলাম প্রসারেরও অনেক আগে থেকে হয়ে আসছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, হিজাবের প্রথম ব্যবহার ধর্মকে উপলক্ষ্য করে নয় বরং সামাজিক প্রথা হিসেবে শুরু হয়। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের উচু শ্রেণীর মহিলারা পর্দা হিসেবে প্রথম এই হিজাবকে বেছে নেয়। তবে নীচু জাতের মহিলাদের জন্য তখন এই হিজাব পড়া নিষিদ্ধ ছিল। তখনকার সময়ে এই চল গ্রীস থেকে পার্সিয়ার প্রতিটি সমাজে ছিল যখন ইসলামের আগমনই ঘটেনি। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে হিজাব আপনি কি জানেন? শুধু ইসলাম ধর্মেই হিজাব সম্পর্কে আলোচনা ও মতভেদ বিদ্যমান নয়। এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে অন্যান্য ধর্মেও। অথচ হিজাব নিয়ে কথা উঠলেই তা রুপ নেয় ধর্মীয় বিতর্কে।

কিছু কিছু ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ তো, আবার জোর গলায় বলতে চান কোরআনের কোথাও হিজাব দিয়ে মাথা ও মুখ ঢাকার কথা বলা হয়নি। আবার কিছু মুসলিম মনে করে সূরা ২৪ এর ৩১ নাম্বার আয়াতে মাথা ও চুল ঢাকার জন্য যেটির কথা বলা হয়েছে সেটি আসলে হিজাব নয়। কিন্তু অনেক আলেমের মতে, মাথা ও চুল ঢাকার জন্য যেটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেটি হিজাব বৈ অন্য কিছু নয়। যার ফলশ্রুতিতে অন্য ধর্মের নারীরা যখন হিজাবকে সামাজিক কৃষ্টি হিসেবে পরিধান করতে শুরু করে, ইসলাম ধর্মের নারীরা তখন ধর্মীয় অনুশাসনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে হিজাবকে।

খ্রিষ্টান ধর্মের সাথে হিজাবের সম্পর্ক

এখন তো মানুষ হিজাব দেখলেই এটাকে ইসলামী বস্তু মনে করে। কিন্তু একবারও কি লক্ষ্য করে দেখেছেন? ক্যাথলিক নান’রা যা পড়ে তা কি? আসলে মুসলমানদের কাতারে ফেলে দেয়া এই হিজাবের মুল শিকড়। কিন্তু খ্রিষ্ট ধর্মে প্রোথিত সেন্ট পলের তথ্য থেকে জানা যায়, খ্রিষ্টান মেয়েরা এক খন্ড কাপড় দিয়ে তাদের মাথা ঢাকত। অন্যান্য খ্রিষ্টান দার্শনিকরাও ওই সময় এই প্রথাকে উৎসাহ যুগিয়েছেন। তাই কারো মাথায় হিজাব দেখে কিছু মন্তব্য করার আগে আপনি দুইবার ভাববেন নিশ্চয়ই। কেননা এটা তো পরিস্কার হলো যে, হিজাব শুধু মুসলিম নারীরাই পরিধান করেন না।

হিজাব নিয়ে নিয়ম-কানুন অনেক অমুসলিমদের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। যে মেয়েদেরকে জোর করে হিজাব পড়ানো হয়। কিন্তু সত্যি হল বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মেয়েরা নিজের থেকে হিজাব পরিধান করে থাকেন। তবে অল্প কিছু দেশে হয়ত নারীদের হিজাব পরিধানের জন্য বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে পুরো বিশ্বের তুলনায় সেই সংখ্যাটা খুবই নগন্য। যেমন জর্দানের রানী রাইনার কথাই ধরা যাক, এই ধর্মপ্রাণ নারীকে প্রকাশ্যে হিজাব পরিহিত অবস্থায় এবং হিজাব ছাড়া দুই ভাবেই দেখা যায়। হিজাবের রকমফের বিভিন্ন দেশ আর নানা ধর্মের ভিন্নতার মত অঞ্চল ভেদে হিজাব পরিধানেরও বিভিন্ন নিয়ম রয়েছে।

আবার ভিন্নতা আছে হিজাবের রং ও নকশায়। আবার কিছু মিডিয়াও হয়ত আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করাবে সাদা-কালো ছাড়া হাজারো রংয়ের হিজাবের দিকে। কারণ হিজাব যে এখন একটি ফ্যাশন উপকরনও নানা কাপড়ে, হাজারো রংয়ে আর বিভিন্ন ঢংয়ে পাওয়া যাচ্ছে এই হিজাব। তাই বিভিন্ন উপলক্ষ্যে নারীদের মাথায় উঠছে বৈচিত্রময় সব হিজাব। পুরনো বনাম নতুন আপনারা নিশ্চয়ই দেখে থাকবেন বর্তমান মেয়েদের ছোট-খাট পোষাককে কোন ভাবেই ভালো চোখে দেখেন না। তাদের বাবা-মা কিংবা দাদী-নানীরা তারা পছন্দ করেন না।

ধর্মীয় আচার কিংবা পর্দা

ছেলেদের চুলের স্টাইল আর ছেড়া-ফাটা জিন্সকে এটা আসলে হয় দুই প্রজন্মের দৃষ্টি ভঙ্গির পার্থক্যের কারণে। যেটা এখন লক্ষ্যনীয় ইসলাম ধর্মেও পুরনো প্রজন্মের মুসলিম নারীরা যেখানে বিনা বাক্য ব্যয়ে হিজাবকে পরিধান করছে। ধর্মীয় কৃষ্টি হিসেবে সেখানে নতুন প্রজন্ম হিজাবকে আপন করে নিয়েছে। ধর্মের সাথে ফ্যাশানের মিশেল ঘটিয়ে সাধারণ থেকে জটিল তো, এতক্ষণ আপনি মোটামুটি হিজাবের ইতিহাস, রং, কাপড় আর এর ফ্যাশন নিয়ে অনেক কিছুই জেনে ফেলেছেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন বিষয়টি এতটা সাধারণ নয় এটা তার থেকেও কিছুটা জটিল বাস্তবতা হচ্ছে এটা শুধু এক খন্ড কাপড় নয়।

ধর্মীয় আচার কিংবা পর্দা ছাড়াও এই হিজাব আবার অনেক অমুসলিম মেয়েরা ব্যবহার করে থাকে। খেলাধুলার সময় আকৃতির ক্ষেত্রেও হিজাব বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যেমন আয়তক্ষেত্রাকার, চতুরকোণা, ত্রিভূজ সহ আর কত রকমের হিজাবের সুবিধা। যেসব মেয়েরা হিজাব পরিধান করেন তাদের ভাষ্য অনুযায়ী হিজাব পড়ার অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমন পুরুষকে ক্যাপ পড়লে ভাবতে হয় না চুল নিয়ে তেমনি মেয়েদের ক্ষেত্রেও যারা হিজাব পড়েন তাদেরকে বাইরে বেরুতে গেলে একদমই ভাবতে হয়না তাদের চুল নিয়ে।

চুলের পিছনে বাড়তি সময় নষ্ট না করে মাথায় হিজাব দিয়ে যখন তখন বেরুনো যাই। বাহিরে অনেকের মতে স্কুল ইউনিফর্মের মত হিজাবও মেয়েদেরকে ফ্যাশন প্রতিযোগীতা থেকে দুরে রাখে। অসুবিধা হিজাব নিয়ে শারিরীক, মানসিক এবং মনসতাত্ত্বিক কোন অসুবিধা না থাকলেও বর্তমান সময়ে কিছু দেশে এটি নিয়ে সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক সমস্যা রয়েছে। পারিপার্শ্বিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত গরমে ঘেমে যাওয়ার সম্ভাবনা। এবং বৃষ্টির সময়ে হিজাব ভিজে ঠান্ডার সমস্যা সৃষ্টি করা। তবে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা যেটি সেটি হল, উন্নত দেশের মানুষের হিজাব নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।

ইসলাম ভিত্তিক জঙ্গী গোষ্ঠীর উত্থানের পর পশ্চিমা দেশগুলো হিজাব মানেই ইসলাম, আর ইসলাম মানেই জঙ্গী। এমন ভ্রান্ত ধারণা পোষন করে থাকে ফলে হিজাব পরিহিত অনেক নারীকে ওইসব দেশগুলোতে মাঝে মাঝেই নীপিড়নের শিকার হতে হয়। তাছাড়া ওই সব দেশের মিডিয়াগুলোতেও হিজাব নিয়ে ক্রমাগত নেতিবাচক সংবাদ প্রচারে এর প্রভাব পড়ছে ওই সব দেশের জনগনের মধ্যে। তবে যত কিছুই হোক এটা অস্বীকার করা উপায় নেই, হিজাব নারীদের ব্যক্তিত্ব, সৌন্দর্য আর শালীনতাবোধ বাড়াতে অপরিসীম ভূমিকা রাখে নি:সন্দেহে।

1 thought on “হিজাব সম্পর্কে এমন সব তথ্য রয়েছে যা অনেকেই হয়ত জানেন না”

  1. Pingback: বিশ্বের অসাধারণ আজব ও উদ্ভুত ৭ ঝরনা – Yify Subtitles

Leave a Comment