মুরগীর ফার্মের নিষ্ঠুরতা দেখলে আপনার চোঁখেও পানি আসবে

এই বিশ্বে প্রতিদিন মানুষ কি পরিমান মুরগী আহার করে তার তো কোন হিসেবে নেই। কিন্তু এটা জানি সেই মুরগীর সিংহভাগের যোগান আসে পেশাদার মুরগীর ফার্ম থেকে। তবে এইসব মুরগীর ফার্মের কর্ম কান্ড দেখলে মানুষ হিসেবে আপনার খুবই খারাপ লাগবে।

নিরীহ একটি প্রাণীর সাথে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে আচরন করা হয় তাতে আপনার কোমল হৃদয় ভারাক্রান্ত হতে পারে। চোঁখে পানিও চলে আসতে পারে সব দেখে। আপনার কাছে ভাগ্যবান মনে হতে পারে বাড়িতে পালা মুরগীরগুলোকে। তাহলে চলুন দেখি মুরগীর ফার্মে মুরগীর সাথে ঘটা জীবনাচারের আদ্যোপ্রান্ত হ্যাচারী থেকেই শুরু করা যাক।

হ্যাচারীতে ডিম থেকে মুরগীর বাচ্চা ফোটানোর কাজ করা হয়। এখান থেকেই শুরু হয় একটি মুরগীর বাচ্চার জীবনের শুরু। বাচ্চা ফোটার সাথে সাথেই এগুলোকে স্থানান্তর করা হয়। ফ্যাক্টরি ফার্মে এ সময় বাচ্চাগুলো ভয়ে চিৎকার করতে থাকে, খুঁজতে থাকে তার মাকে। কিন্তু ফ্যাক্টরির লোকজনের এসবে কান দেবার সময় কই।

মুরগীর ফার্মের নিষ্ঠুরতা

কারন এখানে মুরগীর বাচ্চাগুলোকে জীব মনে করা হয়না মনে করা হয় পণ্য। প্রথমেই কোমল প্রাণীগুলোকে একটি মেশিনে ঢেলে দেয়া হয়। যেখানে প্রাকৃতিক উপায়ে ফোটা বাচ্চা তার মায়ের সান্নিধ্যে পরম মমতায় বড় হতে থাকে। সেখানে ফার্মের মুরগীর সাথে শুরু থেকেই করা হয় নিষ্ঠুর আচরন। কিছু কিছু বাচ্চা তো আবার ডিম ফুটে বের হয়েই আসতে পারেনা।

একজন কর্মচারী দেখাচ্ছেন কিভাবে একটি বাচ্চা ডিম থেকে বেরুতে না পেরে ডিমের ভিতরেই মরে গেছে। ডিম থেকে বেরুনোর পরপরই বাচ্চাগুলোকে ডিমের খোসা সমেত একটি কনভেয়ার বেল্টে ফেলে দেয়া হয়। তারপর আরেকটি কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে কর্মচারীদের দ্বারা বাচ্চাগুলোকে আরেকটি জায়গায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিম আর বাচ্চাগুলো আলাদা করা হয়।

তারপর আরেকটি কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে কর্মচারীদের দ্বারা বাচ্চাগুলোকে আরেকটি জায়গায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। কিছু কিছু বাচ্চা তো কনভেয়ার থেকে নীচেও পড়ে যায় এবং বাঁচার জন্য এদিক সেদিক ছুটতে থাকে। কনভেয়ার বেল্ট থেকে বাচ্চাগুলোকে পণ্যের মত একটি প্লাস্টিকের বাক্সে ছুড়ে ফেলা হয়।

এছাড়া কনভেয়ার বেল্ট থাকা অবস্থায় আবার কিছু কর্মচারী দুর্বল, রুগ্ন আর আহত বাচ্চাগুলোকে আলাদা করে ফেলে। এক কর্মচারী ফার্মের জন্য অযোগ্য একটি বাচ্চাকে কিভাবে মারা হয় তা-ই দেখাচ্ছেন। এই কর্মচারী ছোট্ট নাজুক বাচ্চাটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে বাচ্চাটিকে হত্যা করেন।

এরপরও কিছু কিছু বাচ্চা ডিমের খোসার সাথে থেকে যায়। সেগুলোকে কর্মচারীরা ডিমের খোসার সাথেই একটি লোহার হাতল দিয়ে নির্মম ভাবে চেপে চেপে মেরে ফেলেন। সেখানে বাচ্চাগুলোর গগনবিদারী চিৎকার সত্বেও তাদেরকে রহম করার মত কেউ থাকে না। পরের ধাপে বাচ্চাগুলো ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য একটি রোলারে ফেলা হয়।

আপনার চোঁখেও পানি আসবে

সেখানে কর্মচারীর ধরো মারো আর ছুড়ে ফেলো, এই পদ্ধতিতে বাচ্চাগুলোকে গোল রোলারের মাঝখানে ফেলে দেয়। তারপর সেগুলোকে এক এক করে বিভিন্ন ট্রেতে ভরা হয় তারপর ট্রে ভর্তি বাচ্চাগুলোকে ট্রাকে ভরে বিভিন্ন ফার্মে সরবরাহ করা হয়। এই ফার্মগুলোতেই একটি মুরগীর বাকী জীবন কাটে।

নির্মমতায় আর দুর্দশায় এখানে মুরগীগুলোকে এমনভাবে খাওয়ানো হয় এবং হরমোন প্রয়োগ করা হয় যে এগুলো খুব দ্রুত বড় হতে থাকে। এখানে যদি একটি মুরগীর বাচ্চার বদলে একটি মানুষের বাচ্চাকে কল্পনা করা যায় ,তাহলে দেখা যাবে সে দুই মাসে ৬শ পাউন্ড ওজনের অধিকারী হবে।

কিছু কিছু সময় তো এত ওজনের কারনে মুরগীগুলো তাদের নিজের পায়ে পর্যন্ত দাড়াতে পারেনা। ফলশ্রুতিতে কঠিন যন্ত্রনা ভোগ করে অনেক মুরগী অকালেই মরে যায়। অনেক সময় আহত মুরগীগুলোকে জীবিত অবস্থায়ই ফেলে দেয়া হয়। আর যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে ৪০ দিন পর জবাইয়ের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানেও অবধারিতভাবে নৃশংসতার শিকার হতে হয় মুরগীগুলোকে। যন্ত্রের সাহায্যে জবাইয়ের মাধ্যমে পরিসম্পাপ্তি ঘটে একটি মুরগীর জীবনের।

1 thought on “মুরগীর ফার্মের নিষ্ঠুরতা দেখলে আপনার চোঁখেও পানি আসবে”

  1. Pingback: বলিউডের ১০ ব্যাকগ্রাউন্ড শিল্পী – Yify Subtitles

Leave a Comment