মহাকাশ সম্পর্কে ২০ আজব ও বিস্ময়কর তথ্য

আমার যখন মহাকাশে হাজার কোটি তারা দেখি তখন নিজেদেরকে কত ক্ষুদ্র মনে হয়। কারন আমরা তো এই মহাকাশের ধূলা ও মাটি থেকেই তৈরি। আমাদের বাস মহাকাশের ৫শ ছায়াপথের একটিতে আমাদের ছায়াপথ। মিল্কিওয়েতে রয়েছে ১ হাজার কোটিরও বেশী তারা, সেই তারার একটি হল আবার সূর্য।

সেই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করা ছোট একটি গ্রহের নাম পৃথিবী। সেই পৃথিবীতে বাস মনুষ্য প্রজাতির, তাহলে বুঝুন মহাকাশের তুলনায় আমরা কতটা ক্ষুদ্র। সে যাই হোক এখন আমি আপনাদেরকে জানবো মহাকাশ সম্পর্কে ২০টি আজব ও বিস্ময়কর তথ্য।

মহাকাশে সবকিছু গতিশীল

আমাদের পৃথিবী ১৬শ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় ঘূর্নায়মান। আর পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে ১লক্ষ ৮ হাজার কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়। আর সূর্য নিজে ৭লক্ষ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়। আমাদের ছায়াপথে মিল্কিওয়েতে ঘুরছে অন্যদিকে আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ে মহাকাশে ২৫ লক্ষ কিলোমিটার বেগে প্রতি ঘন্টায় ঘুরছে।

এক প্রতিবেদন অনুযায়ী আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ে এখন থেকে প্রায় ৩ বিলিয়ন আলোক বর্ষ পর অন্য ছায়াপথের সাথে সংঘর্ষে ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে সেটা দেখার জন্য ওই সময় এই পৃথিবীতে মানুষজন নাও থাকতে পারে। সূর্য আমাদের পৃথিবীর তুলনায় ১৩ লক্ষ গুন বড়, কিন্তু আমাদের ছায়াপথে সূর্যের থেকেও অনেক অনেক বড়।

তারা রয়েছে মহাকাশ থেকে চীনের প্রাচীর দেখা যায়না। কিন্তু জলস্থানে চীনের দূষন ঠিকই দেখা যায়। টিভিতে কোন সিগন্যাল না থাকলে যে ঝির ঝির ছবি আর শো শো শব্দ শোনেন তা বিগ ব্যাংয়ের পরপরই তৈরি হওয়া রেডিয়েশেনের ফল। যা হাজার কোটি বছর পরও ইথারে রয়ে গেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ১০ দেশ

বৈজ্ঞানিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী মহাকাশের একটি তারার সাথে ২০২৯ সালে পৃথিবীর সংঘর্ষ হতে পারে। ১৯৬২ সালে যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে একটি হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। যার ক্ষমতা জাপানের হিরোশিমা বোমার থেকে শতগুন শক্তিশালী ছিল।

বিজ্ঞানীরা মহাকাশে পানির একটি বিশাল মহাসগর খুঁজে পেয়েছেন

ক্যালিফোর্নিয়ার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির বিজ্ঞানীরা মহাকাশে পানির একটি বিশাল মহাসগর খুঁজে পেয়েছেন। যা পৃথিবীতে থাকা পানির তুলনায় ১৪০গুন বেশী। কিন্তু দু:খের বিষয় এটি পৃথিবী থেকে ১২ আলোক বর্ষ দুরে আর এতে ব্ল্যাক হোলও রয়েছে। আমাদের পৃথিবীতে থেকে ৭শ মিলিয়ন আলোক বর্ষ দুরে গ্রেট হোয়াইট নামের একটি ছায়াপথ আছে।

যার একটি অংশ পুরোপুরি খালি ৩৫ আলোক বর্ষ দুরুত্বের সমান। ওই জায়গাটিতে একেবারে কিছুই নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে ফিফটি ফাইভ ক্রাংক্রিন নামের এমন এক গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। যা পুরোটি হীরার তৈরি, এই গ্রহের আয়তন পৃথিবীর তুলনায় ৩গুন বড়। আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে বড় পাহাড় অলিম্পাস মুন মঙ্গল গ্রহে অবস্থিত।

যা মাউন্ট এভারেস্ট থেকে কয়েক গুন বড়। চাঁদে থাকা মানুষের পায়ের চিহৃ ১০ আলোক বর্ষেও মুছে যাবে না। কারন সেখানে বায়ু, পানি কিছুই নেই তবে বাইরে থেকে আসা উল্কার ধুলো কনায় তা এক সময় মুছে যাবে। মহাকাশে বাতাস নেই তবুও সেখানে একটি গন্ধ পাওয়া যায়। যা গরম ধাতু এবং জ্বলে যাওয়া মংসের গন্ধের মত আন্ত:দেশীয় মহাকাশ স্টেশন পৃথিবীর মূল্যবান বস্তুর মধ্যে একটি।

এর মুল্য ১৫০ বিলিয়ন ইউএস ডলার অ্যান্ড্রোমেডা ছায়াপথ পৃথিবীতে থেকে খালি চোঁখে দেখতে পাওয়া দুরে অবস্থিত একমাত্র ছায়াপথ। এটি পৃথিবীতে থেকে ২৩ লক্ষ ৯ হাজার আলোক বর্ষ দুরে অবস্থিত। এই ছায়াপথে ১০ হাজার কোটি তারা রয়েছে। এর ব্যাস ১ লক্ষ ৮০ হাজার আলোক বর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত বিজ্ঞানীদের তথ্যানুসারে রাতের আকাশে আমরা যা দেখি তা শুধুই অতীতের প্রতিচ্ছবি।

ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে

আজ আকাশে যে হাজার হাজার তারা দেখছি তাদের মধ্যে অনেকগুলো হয়ত ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার ছবি মুছে যেতে একই সময় লাগবে, যে সময় লেগেছে তার আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে পৃথিবীর বাতাসের কারনে আমরা সূর্যকে লাল, হলুদ এবং বেগুনীসহ বিভিন্ন রংয়ে দেখে থাকি। কিন্তু বাস্তবতা হল সূর্যের রং একদম সাদা মহাকাশ থেকেও একে সাদাই দেখা যায় চাঁদ।

প্রতি বছর পৃথিবী থেকে ৩ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার দুরে সরে যাচ্ছে। কয়েক লক্ষ কোটি বছর পর চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করা বন্ধ করে দিবে। তখন শুধু পৃথিবীর এক অংশ থেকেই চাঁদকে দেখা যাবে। এই ছবিটি ৬ আলোক বর্ষ দুর থেকে তোলা আমাদের পৃথিবীর ছবি।

এই ছবিটি তুলেছে ভয়েজার ওয়ান নামের একটি স্পেসক্রাফট। এই মহাবিশ্বে আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথ ছাড়াও বিজ্ঞানীরা আরও ৫শ টি ছায়াপথের সন্ধান পেয়েছেন এবং প্রতি বছর আরও একটি দুটি করে সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। তাই সতিক্যার অর্থে এই মহাবিশ্ব আসলে কতটা বড় তা কোন মানুষের পক্ষে কোন দিনই কল্পনা করা সম্ভব নয়।

Leave a Comment