ভারতে ঘটা বিশ্বের সবচেয়ে আজব, অদ্ভুত ও অলৌকিক ৩ অমিমাংসিত ঘটনা

আমাদের মধ্যে কিছু মানুষ সব ঘটনার পিছনে যুক্তি খোঁজেন বিজ্ঞান দিয়ে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেন। সবকিছু কিন্তু সত্যিকারের দুনিয়া তার থেকেও অনেক বেশী রহস্যময় আমাদের পাশের দেশ ভারতে। এমন ৩টি ঘটনা ঘটেছে যা হতভম্ব করে দিয়েছে বিশ্ববাসীকে যার একটির সাক্ষী ছিলেন স্বয়ং মহাত্না গান্ধী।

তাহলে আসুন জানি ভারতে ঘটা বিশ্বের সবচেয়ে আজব, অদ্ভুত ও অলৌকিক ৩ অমিমাংসিত ঘটনা সম্পর্কে।

প্রাহলাদ জানি (Prahlad Jani)

প্রাহলাদ জানিকে দুনিয়ার অষ্টম আশ্বর্য বললেও ভুল বলা হবেনা কারন এই ব্যক্তি ১৯৪০ সাল থেকে ৭৭ বছর ধরে কোন প্রকার খাবার খাওয়া ছাড়াই দিব্যি বেঁচে আছেন ৮৭ বছর বয়সী গুজরাটবাসী প্রাহলাদ।

জানি সম্পর্কে এমন কথা জানার পর ৩৫জন চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল টিম তাকে ১৫ দিন স্টারলিংক হাসপাতালের একটি কক্ষে নিবিড় পর্যবেক্ষনে রাখেন। বলা চলে প্রায় বন্দী অবস্থায় রাখেন কিন্তু উক্ত সময়ে খাদ্য বিহীন প্রাহলাদ জানির শরীরে কোন প্রকার শারিরীক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি।

তিনি দিব্যি আর দশটা সাধারন মানুষের মতই সুস্থ সবল ছিলেন অথচ বিজ্ঞানের ভাষ্যানুযায়ী, কোন মানুষ পানি ছাড়া ৭ দিনের বেশী বেঁচে থাকতে পারেনা অথচ প্রাহলাদ জানি দীর্ঘ ৭৭ বছর ধরে বিজ্ঞান আর যুক্তিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বিনা খাবারে সুস্থ মানুষের মতই নিরোগ আর সবল দেহ নিয়ে দিব্যি বেঁচে আছেন।

বুলেট বাবা (Bulet Baba or Om Banna)

বুলেট বাবা নামের এই রহস্যকে ওম বান্না (Om Banna) নামেও অনেকে চিনে থাকবেন। ভারতের রাজস্থানে ১৯৮৮ সালে ওম বান্না নামের এক ব্যক্তি মোটার সাইকেলে করে তার শ্বশুর বাড়িতে যাচ্ছিলেন কিন্তু পথিমধ্যে তিনি দুর্ঘটনায় পতিত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওম বান্নার মোটরসাইকেলটি যাকে বুলটে নামে ডাকা হয়।

সেটিকে জব্দ করে স্থানীয় রহিত থানায় নিয়ে আসে কিন্তু পরদিন থানার লোকজন লক্ষ্য করেন। বুলেট সেখানে নেই চালক বিহীন বুলেট সেখানে চলে গিয়েছিল যেখানে ওম বান্নার মৃত্যু হয়েছিল পুলিশ সেখান থেকে বুলটেকে আবারও থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু পরদিন আবারও সেটি ওম বান্নার কাছে চলে যায়। এভাবে কয়েক দিন চলার পর পুলিশ মোটরসাইকেলটিকে লোহার চেইন দিয়ে বেঁধে রাখে এবং পাহাড়া বসায়।

কিন্তু সবাই অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন বুলেট নিজে নিজে চালু হয়ে চালক ছাড়াই ওম বান্নার দুর্ঘটনাস্থলে দিকে চলে যাচ্ছে। বিষয়টি পুলিশ ও স্থানীয় গ্রামবাসীর কাছে চমৎকৃত মনে হওয়ায় তারা বুলেটকে ওম বান্নার মৃত্যু স্থানে সংরক্ষনের ব্যবস্থা করে বর্তমানে সেখানে বুলটে কে কেন্দ্র করে একটি মাজারের মত গড়ে উঠেছে।

মানুষ দুর দুরান্ত থেকে বুলেট কে পুঁজা করার জন্য সেখানে আসে এছাড়া ওম বান্নার দুর্ঘটনার পর রাজস্থানের ওই জায়গাটিতে আর কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি এটা একটা আশ্চর্যের বিষয় বটে আর পুরো ঘটনাটি শতভাগ সত্য।

শান্তি দেবী (Shanti Devi)

শান্তি দেবীর যখন মাত্র ৪ বছর বয়স তখন থেকেই তার পূর্ব জন্মের ইতিহাস তাকে তাড়া করতে শুরু করে। দিল্লিতে বাস করা শান্তি তার বাবা-মা কে জানায় যে তার বাড়ি মথুরাতে এবং তার স্বামী সেখানে তার প্রতীক্ষা করছে। কিন্তু শান্তির বাবা-মা তার এসব শিশু সুলভ কথাবার্তাকে পাত্তা না দেয়ায় শান্তি দেবী ৬ বছর বয়সে মথুরা যাওয়ার জন্য ঘর থেকে পালিয়ে যায়।

পরে তাকে ফিরিয়ে এনে স্কুলে ভর্তি করার পর ওখানেও সে সবাইকে বলতে থাকে। যে সে বিবাহিত আর সন্তান জন্মদানের ১০দিন পর তার মৃত্যু হয়েছিল স্কুলের শিক্ষকরা লক্ষ্য করেন শান্তি দেবী মাঝে মাঝেই মথুরার স্থানীয় ভাষায় কথা বলেন এবং তার পূর্ব জন্মের স্বামী কেদার নাথের গল্প করেন। সবার সাথে বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কৌতুহলী করে তোলে তিনি মথুরা গিয়ে কেদার নাথকে খুঁজে বের করেন।

সেই সাথে তিনি জানতে পারেন এই কেদার নাথের স্ত্রী লুপ্তি দেবীর মৃত্যু, সন্তান জন্মদানের ১০ দিন পর হয়েছিল যা শান্তি দেবীর কথার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। এরপর কেদার নাথ এবং তার সন্তানকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শান্তি দেবীর সামনে ভিন্ন নাম ও পরিচয়ে হাজির করা হয় কিন্তু শান্তি দেবী তাদেরকে প্রথম দেখাতেই চিনে ফেলেন।

যে এরা লুপ্তি দেবীর পরিবার তারপর শান্তি দেবী কেদার নাথকে। এমন সব ঘটনার কথা বর্ণনা করেন যা থেকে কেদার নাথ বিশ্বাস করতে বাধ্য হন। এই শান্তি দেবীই তার স্ত্রী এ ঘটনা তৎকালীন সময়ে পুরো ভারত জুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।মহাত্না গান্ধী বিষয়টি আমলে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

সত্য ঘটনা উদঘাটনের নির্দেশ দেন তদন্ত কমিটি শান্তি দেবীকে নিয়ে মথুরা যায় এবং লক্ষ্য করেন শান্তি দেবী সেখানকার সবকিছু চিনেন এবং পাড়া প্রতিবেশী সবার নাম পর্যন্ত জানেন সব দেখার পর তদন্ত কমিটি এই মর্মে উপনীত হয় যে শান্তি দেবী রুপেই লুপ্তি দেবী পুনর্জন্ম হয়েছে আর এতে কোন সন্দেহ নেই কিন্তু বিজ্ঞান এই বিষয়ে আজও কোন সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।

Leave a Comment