বিশ্বের নয়নাভিরাম গাছের ১০ সুড়ঙ্গ বা ট্রি টানেল

যদি বলা হয় এই পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর জিনিস কি? তাহলে নিশ্চিতভাবেই তার উত্তর হবে প্রকৃতি। কৃত্রিম যে কোন কিছুই সাজানো প্রকৃতির কাছে একেবারে নস্যি। আজ আমি আপনাদেরকে জানাবো প্রকৃতির দান এমনই ১০টি নয়নাভিরাম বৃক্ষ টানেল বা গাছের সুড়ঙ্গ সম্পর্কে।

কাউয়াই ট্রি টানেল, যুক্তরা

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই রাজ্যের কাউয়াই শহরের মালিউহি সড়কে দেখা মেলে দৃষ্টিনন্দন এই ট্রি ট্যানেলের। ৫২০ হাইওয়ের প্রথম আধা মাইল ইউক্যালিপ্টাস গাছের আচ্ছাদনে ঢাকা এই সড়ক সড়ক। তাই তো পরিপাটি এই গাছ সুড়ঙ্গে হারিয়ে যেতে ভালোবাসেন হাওয়াইয়ের মানুষজন।

ইউ টানেল, যুক্তরা

অষ্টাদশ শতাব্দীতে ডায়ার পরিবার দ্বারা ইউ টানেলের বৃক্ষগুলো রোপন করা হয়েছিল এবং এটি যুক্তরাজ্যে সত্যিই অনন্য। এই বৃক্ষ টানেলের গাছগুলো লম্বা হয়ে বাড়তে বাড়তে এর প্রসারিত অংশগুলো তোরণের মতো বাঁকে গেছে। তাদের গুড়ি ছড়িয়ে পড়েছে এবং শাখাগুলো বিলীন হয়ে গেছে। যার কারণে বর্তমানে কতগুলো বৃক্ষ এই টানেলে মিশ্রিতভাবে আছে তা নির্নয় করা কঠিন।

রোয়া গনকালো ডি কারভালহো, ব্রাজিল

এই বৃক্ষ টানেলটি ব্রাজিলে অবস্থিত রোজউড গাছঘেরা এই পথ শুরু হয়েছে পোর্তো আলেগ্রে থেকে। ১০০টিরও বেশি রোজউড গাছ প্রসারিত সড়কে ছায়া দিয়ে থাকে। তিনটি শহরের ব্লকে সম্প্রতি এটিকে দেশটির ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক বাস্তসংস্থানগত এবং পরিবেশগত ঐতিহ্যের অংশ ঘোষণা করা হয়েছে। রোজউড গাছ শীতল বাতাসের চাহিদা ৩০ ভাগ পর্যন্ত কমায় ফলে এসির প্রয়োজনীয়তা কমে। ব্রাজিলে এটি দীর্ঘদিন ধরে শহরে সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে চলেছে।

চেরি ব্লুজম টানেল, জার্মানি

এই টানেলটি জার্মানির বন শহরে অবস্থিত। শান্তিপূর্ণ শহরটির মধ্য দিয়ে সারি সারি চেরি বৃক্ষ ছবির মত নুয়ে পড়েছে। বসন্তকালে চেরি গাছের ফুলগুলো পরিপূর্ণভাবে ফোটে যখন ফোটে তখন তা হয় দেখার মত। বন শহরের দুটি সড়ক এরকম চেরি গাছ দিয়ে আচ্ছাদিত। চেরি ফুল গড়ে ৭-১০ দিন স্থায়ী হয় এবং আবহাওয়ার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে।

জাকারানডাস ওয়াক, জোহানেসবার্গ

পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর বৃক্ষ টানেল এটি প্রায় ১০ মিলিয়ন বৃক্ষ। দক্ষিণ আফ্রিকার এই সর্ববৃহৎ শহরটিকে সবুজ রেখেছে। বেসরকারি বিভিন্ন সূত্রমতে, জোহানেসবার্গ হচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মনুষ্যসৃষ্ট বনভূমি। জাকারানডাসে ৪৯টি প্রজাতির গাছ আছে। যার অধিকাংশই দক্ষিণ আমেরিকার নিজস্ব এবং ক্যারিবীয় বেসিনের শত শত বছর ধরে ক্রান্তীয় বৃক্ষগুলো দক্ষিণ আফ্রিকাতে আমদানি করা হয়।

বিশ্বের সর্বকালের সেরা ১০ প্রভাবশালী মানুষ

অক্টোবর মাসে হাজার হাজার জাকারানডা ফুল পরিপূর্ণভাবে প্রস্ফূটিত হয়। দর্শনীয় এ বৃক্ষ টানেলটি জোহানেসবার্গ এবং প্রিটোরিয়াতে দেখা যায় যায়। জাকারানডা শহরে ৭০ হাজারেরও বেশি জাকারানডাস গাছের উজ্জ্বল নীল রক্তবর্ণের ফুলগুলো পুরো শহরের চেহারাই পাল্টে দেয়।

টানেল অব লাভ, ইউক্রেন

ইউক্রেনে অবস্থিত টানেল অব লাভ বা ভালোবাসার টানেল নামে খ্যাত এই টানেলটি একটি অনন্য এবং আশ্চর্য্জনক বনভূমি। এর মধ্যে রেলপথও রয়েছে, এটিকে পৃথিবীর খুবই রোমান্টিক একটি স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রকৃতি নিজের হাতে অপরূপ রূপে সাজিয়েছে। এই সবুজ টানেলকে বিশেষ করে মে থেকে অক্টোবর মাসে যখন ফ্লোরা ফুল ফোটে তখন টানেলটির সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে হৃৎস্পন্দন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এমন ভাষ্য সেখানে যাওয়া প্রেমিক-প্রেমিকাদের অসাধারণ রোমান্টিক পরিবেশ থাকায় এর নাম দেওয়া হয়েছে।

‘টানেল অব লাভ’ ওয়েসটেরিয়া টানেল, জাপান

কাওয়াছি ফুজি উদ্যানে অবস্থিত ফুল গাছঘেরা এই অত্যাশ্চর্য্ হাঁটার পথটি ওয়েসটেরিয়া বা হালকা বেগুনি টানেল নামে পরিচিত। এর মধ্য দিয়ে হাঁটার সময় সত্যিই শান্তিপূর্ণ অনুভূতি হয়। এটি বোটানিক্যালে আনন্দের একটি উত্তেজনাপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত। টানেলটি জেন বাগান ও একটি চেরি পুষ্প উৎসব কিতাকুসুর মধ্যে কাওয়াছি ফুজি উদ্যানে অবস্থিত কৃত্রিম এই টানেলটি বিভিন্ন ধরনের এবং হালকা বেগুনি রঙের একটি নলাকার জাফরি দিয়ে আচ্ছাদিত করা হয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসে এই গাছে যখন হালকা বেগুনি রঙের ফুল ফোটে তখন সেটি দেখতে মুগ্ধকর হয়ে ওঠে।

ডার্ক হেজেস, উত্তর আয়ারল্যান্ড

এই স্থানটি অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য বেশ জনপ্রিয়। এটি উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রাকৃতিকভাবে গঠিত বিস্ময়কর একটি স্থান। ছবি তোলা এবং পর্য্টকদের জন্য জায়গাটি খুবই আকর্ষণীয়। শত শত ভ্রমণ শিল্পী তাদের ক্যানভাসে এটি অংকন করেছেন। বিয়ের ছবি তোলার জন্য এই টানেলটি অনেকের কাছে খুবই প্রিয়।

ব্যাম্বু পাথ, জাপান

জাপানের আরাশিয়ামায় বাঁশের একটি বনভূমি আছে। যেটি সাগানো নামে পরিচিত ৫০০ মিটার দীর্ঘ পথটি সুন্দর বাঁশ বনভূমির মধ্য দিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ প্রসারিত বাঁশের বনভূমিকে দেশটি তাদের ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে মনোনীত করেছে। সাংস্কৃতিক সংস্থা এটিকে ‘চিত্তাকর্ষক স্থান’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। রাস্তার চারপাশে লম্বা বাঁশ বৃক্ষগুলো চমৎকারভাবেই ওই এলাকাকে শীতল রাখে। এই বাঁশঘেরা টানেলের খুব কাছেই বিখ্যাত কয়েকটি মন্দির ও মঠ অবস্থিত যখন এই টানেলের মধ্য দিয়ে বাতাস প্রবাহিত হয়, তখন সন্মোহণ করার মত এক ধরনের শব্দ সৃষ্টি হয়। জাপানে অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে এমন ১০০টি জায়গার মধ্যে এটি স্থান করে নিয়েছে।

গিংকো ট্রি টানেল, জাপান

গিংকো বিলোবা গাছ দ্বারা এই টানেলটি আচ্ছাদিত। দীর্ঘ সময় ধরে এই গাছ টিকে থাকার কারণে জাপানিদের কাছে এই গাছটি অত্যন্ত সম্মানের। আপনি জাপান ভ্রমণে গেলে ৬৫ হাজারেরও বেশি গিংকো গাছ রাস্তার পাশে বাগান কিংবা পার্কে বেড়ে উঠতে দেখতে পাবেন। মিইজি শ্রাইনের বাগানের বাইরে গিংকো গাছ টানেলটি অবস্থিত রেকর্ড বলছে যে, হিরোশিমায় বোমা নিক্ষেপের সময় ৬টি গিংকো গাছ বেঁচে যায়। যেখানে অন্যান্য গাছ এবং জীবিত জীবদেহ অত্যন্ত খারাপভাবে মারা যায়। সেই গাছগুলো এখনো বেঁচে আছে এবং অনেকে এখনো সেগুলো দেখতে এখানে আসেন। তারা দেখে বিস্মিত হন, কিভাবে এই গাছগুলো প্রতিদিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে এখনো টিকে আছে। জাপানিরা এই গাছগুলোকে ‘আশার বাহক’, ‘টিকে যাওয়া’ এবং ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ হিসেবে দেখে থাকেন।

1 thought on “বিশ্বের নয়নাভিরাম গাছের ১০ সুড়ঙ্গ বা ট্রি টানেল”

  1. Pingback: অনলাইন দুনিয়ায় ঝড় তোলা সেরা ১০ ইন্টারনেট মেমস – Yify Subtitles

Leave a Comment