পৃথিবী বিখ্যাত ৭ সিঁড়ি পথের কথা

সিঁড়ি স্থাপত্যকলার অনন্য সাধারণ নিদর্শন যা আমরা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছি। কিন্তু আমরা প্রায়ই এর অসাধারণত্বকে ভুলে যাই। সিঁড়ি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষকে সেবা প্রদান করে আসছে। প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ছয়হাজার সাল থেকে আমাদেরকে ছোট বা বড় উচ্চতাকে পরাস্ত করতে সাহায্য করছে সিঁড়ি। আজ আমি আপনাদেরকে জানাব পৃথিবী বিখ্যাত এমনটি ৭টি সিঁড়ির কথা।

চান্দ বাউরি, ভারত

ভারতের রাজস্থানে অবস্থিত চান্দ বাউরি হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ও সবচেয়ে বড় ধাপ বিশিষ্ট কূপ। রাজস্থানে বরাবরই পানির খুব অভাব ছিল। তাই বহুকাল পূর্বে পানি সংরক্ষণের জন্য এই কূপ তৈরি করা হয়েছিল। এটি ১০০ ফুট প্রসারিত এবং ১৬ তলা বিশিষ্ট এই কূপের শীতল পানির কাছে পৌঁছানোর জন্য একজন মানুষকে পারি দিতে হয় সিড়ির ৩হাজার ৫শ টি ধাপ। তবে এই ধাপগুলো এত চমৎকারভাবে তৈরি করা হয়েছে এটি দেখলে আপনার চোঁখ জুড়িয়ে যাবে। তাই তো হলিউডের ছবি‘দ্যা ডার্ক নাইট রাইজেস’ এ পর্যন্ত দেখানো হয়েছে এগুলো।

টাইগার কেভ টেম্পল, থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডের ক্রাবিতে অবস্থিত টাইগার কেভ টেম্পল। বিখ্যাত একটি বৌদ্ধ মন্দির ৬০০ মিটার উচ্চতার। এই মন্দিরটিতে রয়েছে ২৭৮ মিটার উচ্চতার দর্শনীয়। একটি বৌদ্ধ মূর্তি ওখানে পৌঁছতে হলে আপনার সামনে পড়বে ২টি সিঁড়ি পথ। যার একটি মূর্তি পর্যন্ত গেছে আর অন্যটি গেছে চুনাপাথরের গুহা পর্যন্ত। তবে আপনি যদি শিখরে পৌঁছতে চান তাহলে পাড়ি দিতে হবে ১২৩৭ টি সিঁড়ি।

সক্লুসবার্গ, অস্ট্রিয়া

অস্ট্রিয়ার গ্রাজের প্রধান আকর্ষণ এই সক্লুসবার্গ। ক্লক টাওয়ার এর উপর থেকে শহরটি ও এর আশেপাশের সবকিছু দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখার জন্য পর্যটকদের সিঁড়ি বেয়ে সক্লুসবার্গের শিখরে উঠতে হয়। এর সিঁড়িপথে রয়েছে ২৬০টি ধাপ।

সিগিরিয়া লায়ন্স রক, শ্রীলংকা

২০০ মিটার উঁচু বিশালায়তনের পর্বতের এই সিঁড়ি পথটি শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত। একে সিগিরিয়া বা দ্যা লায়ন রক নামেও ডাকা হয়। এটি একসময় রাজার আকাশ দেখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৪শ শতক পর্যন্ত এটি বৌদ্ধ বিহার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই সিগিরিয়া সিঁড়িপথের আছে ১২০০টি ধাপ। এটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের একটি স্থান। এই সিঁড়ি বেয়ে উঠাটা বেশ শ্রমসাধ্য হলেও, উঠার পরে চারপাশের দৃশ্য অবলোকন করলে মন জুড়িয়ে যাবে নিশ্চিত।

সান্তোরিনি সিঁড়ি পথ, গ্রীস

পৃথিবীর বিখ্যাত সিঁড়ি পথগুলোর একটি হচ্ছে গ্রীসের সান্তোরিনি সিঁড়ি পথ। এই অসমতল সিঁড়ি পথটি ১৭১৫ সালে তৈরি করা হয়। পাহাড়ের পাশ দিয়ে এই দ্বীপের বাসিন্দাদের উপরে যাওয়ার জন্য পরবর্তীতে এটিকে আরও উন্নত করা হয়। মালামাল ও যাত্রী নেয়ার জন্য যদিও এই পথে ক্যাবল কার আছে তবুও ৬৫৭ টি সিঁড়ি পার হয়ে যাওয়া পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় এবং মজার।

বিশালদেহী ১০ মানুষ যাদের দেখে চোঁখ সরানো দায়

পোটেমকিন সিঁড়ি, ইউক্রেন

ইউক্রেনের ওডেসাতে পোটেমকিন সিঁড়ি অবস্থিত যা ওডেসার প্রতীক এবং সমুদ্র থেকে শহরে ঢোকার প্রবেশদ্বার। এখানে ২০০টি প্রশস্ত ও বৃহৎ সিঁড়ির ধাপ ছিল। কিন্তু বন্দর সম্প্রসারণের সময় ৮টি সিঁড়িবালুর নীচে চলে যায়। ব্যাটেলশিপ পোটেমকিন নামের চলচ্চিত্রে ওডেসা ধাপের সিঁড়িতে অভিনয় করা হয়।

ক্যানিয়ন সিঁড়ি, ইকুয়েডর

ইকুয়েডরের পাস্তাজা নদীতে জলপ্রপাতের পাশে এই ক্যানিয়ন সিঁড়ি অবস্থিত। এটি মোটামুটি বড় একটিজলপ্রপাত এবং ইকুয়েডরের প্রধান পর্যটন স্থান ক্যানিয়ন সিঁড়ি। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ এটি। প্রাকৃতিকভাবে আঁকাবাঁকা জলপ্রপাতের সাথে সংগতিপূর্ণ পৃথিবী বিখ্যাত সিঁড়িগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

Leave a Comment