কৃষ্ণগহবর বা ব্ল্যাকহোল সম্পর্কে অজানা সব রহস্য

ভৌতিক বিজ্ঞানে আমাদের যত উন্নতি হচ্ছে আমরা ততই একের পর এক আশ্জর্যজনক সব রহস্য উন্মোচিত করতে পারছি আমার এমন সব তারা সম্পর্কে জানতে পারছি। যা আমাদের সূর্যের তুলনায় ৩১৫ গুন বড় এমন গ্রহ সম্পর্কে জানতে পারছি যা পুরোটাই হীরার তৈরি আবার এমন ছায়াপথ সম্পর্কে জানতে পারছি। যা পৃথিবী থেকে ২২ লক্ষ ৫০ হাজার আলোক বর্ষে দুরে তবে আজ আমার জানব, ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহবর সম্পর্কে।

১৭৮৩ সালে ভূবিজ্ঞানী জন মিচেল (John Michell) একটি চিঠিতে ১৭৮৩ সালে সোসাইটির সদস্য এবং বিজ্ঞানী হেনরি ক্যাভেন্ডিসকে (Henry Cavendish) একটি চিঠি লিখেন। যেখানে তিনি এমন একটি জিনিসের কথা উল্লেখ করেন যা থেকে আলোও বাঁচতে পারেনা। জন মিচেল ব্ল্যাক হোলের চিন্তা সেই ১৭শ শতকের শেষের দিকে করলেও ১৯শ শতক পর্যন্ত বিষয়টি বিজ্ঞানীদের কাছে গুরুত্ব পায়নি।

কারন তখন পর্যন্ত সবাই ভাবতো আলোর মতো ভরহীন তরঙ্গ কিভাবে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে? তাই ব্ল্যাকহোল বলেও কিছু নেই কিন্তু অ্যালবার্ট আইনস্টাইন তার জার্নাল থিওরি অব রিলেটিভিটি তে প্রথম উল্লেখ করেন মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আলোর গতিপথে প্রভাব ফেলে তার মানে ব্ল্যাকহোল বলে কিছু একটা আছে।

কৃষ্ণগহবর বা ব্ল্যাকহোল

পরে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সত্যিকারের ব্ল্যাকহোলের সন্ধান পান। তাহলে আপনার মনে হয়ত প্রশ্ন উঠতে পারে ব্ল্যাকহোল কিভাবে তৈরি হয়? যখন কোন বড় তারার নিউক্লিয়ার ফুয়েল শেষ হয়ে যায় তখন তার বাইরের তাপমাত্রার চাপে তারাটির ভেতেরর মধ্যাকর্ষণ ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং সেই বলের কারণে তারাটি চুপসে যেতে শুরু করে।

এটি একটি বিন্দুতে পরিনত হয় কিন্তু ঘনত্ব ও মধ্যাকর্ষন এতটাই বেড়ে যায় যে আলো পর্যন্ত সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পারে না। আমাদের পৃথিবীর মধ্যাকর্ষন ১ জি কিন্তু এটাকে যদি ১৫২০ করা হয় তাহলে মুহূতেই পৃথিবীর সব প্রাণী শুকিয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। অথচ একটি ব্ল্যাকহোলে এক লক্ষেরও অধিক জি ফোর্স বা মধ্যাকর্ষন বল থাকে।

তাই ব্ল্যাকহোলে স্পেস ও টাইমের ওলট-পালট হয় সবচেয়ে ভয়াবহভাবে একে ‘ইভেন্ট হরাইজন’ বলা হয়। এর অর্থ হল ওখানে একবার গেলে আর কখনোই ফিরে আসা সম্ভব নয়। কিছু কিছু মানুষের ধারনা ব্ল্যাকহোল হল একটি ছায়াপথের কেন্দ্রবিন্দু। যাকে কেন্দ্র করে সবকিছু ঘূর্নায়মান আর প্রতিটি ব্ল্যাকহোল একটি ছায়াপথের সাথে আরেকটি ছায়াপথের সংযোগ ঘটায়।

শতাধিক ব্ল্যাকহোলের সন্ধান

এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা শতাধিক ব্ল্যাকহোলের সন্ধান পেয়েছেন। তাদের ধারনা আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ের কেন্দ্রবিন্দুতেও কোন বড় ব্ল্যাকহোল থাকতে পারে। কারন আমাদের ছায়াপথের কেন্দ্রে থাকা তারাটি ৪ কোটি কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় ঘুরছে যা আমাদের সূর্যের তুলনায় অনেক অনেক গুন বেশী দ্রুত। অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যেখান থেকে আলো পর্যন্ত বেরুতে পারেনা।

যার রং পুরোপুরি কালো সেটির খোঁজ বিজ্ঞানীরা পান কি করে? ব্ল্যাকহোলগুলো তাদের শক্তিশালী মহাকর্ষ দিয়ে এর আশেপাশের অণ্ঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করে। একটি সাধারন তারা ব্ল্যাকহোলের কাছকাছি এলে এটি ব্ল্যাকহোলটিকে গিরে প্রদক্ষিণ করতে থাকে। তখন এরা দৃশ্যমান আলো বিকিরণ করে, তখন ব্ল্যাকহোলগুলোকে স্যাটেলাইট বা টেলিস্কোপ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।

আবার কিছু কিছু ব্ল্যাকহোলের মধ্যাকর্ষন শক্তি এত বেশী হয় যে, এটি তার আশেপাশে থাকা গ্যাসকে পর্যন্ত নিজের ভেতর টেনে নেয়। এবং এক্রিয়েশন ডিস্ক বানিয়ে ঘুরাতে থাকে কিন্তু ব্ল্যাকহোলের অতি শক্তিশালী মধ্যাকর্ষনের প্রভাবে, গ্যাসগুলো অতি উচ্চ তাপমাত্রায় গরম হতে থাকে ফলে তা থেকে এক ধরনের এক্সরে লাইট তৈরি হয়।

যা নাসার তৈরি চন্দ্রা এক্সরে অবজারভেটরি খুব সহজেই সনাক্ত করতে পারে। আর বিজ্ঞানীরা তা থেকেই খোঁজ পেয়ে যায় শক্তিশালী কোন ব্ল্যাকহোলের। বর্তমানে নতুন নতুন ব্ল্যাকহোলের সন্ধানে এবং গবেষনার জন্য মহাকাশে রয়েছে নাসার স্পেস ক্রাফট চন্দ্রা এক্সরে অবজারভেটরি সুইফট স্যাটেলাইট এবং ফার্মি গামা এক্সরে স্পেস টেলিস্কোপ।

বন্ধুরা আমারা মহাবিশ্ব সম্পর্কে যা জানতে পারছি তা সবাই আলো এবং আলোর বর্ণচ্ছটা বিশ্লেষণ করেই জানতে পারছি। মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদেরকে জানাতে কেপালার আর হাবলের মত বিশালাকার টেলিস্কোপ নিরবধি কাজ করে চলেছে, আজ এতটুকুই আগামীতে নতুন কোন ভিডিও নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হবো। আমরা আজব মাল্টিমিডিয়া ক্রিয়েশন স্টুডিও সেই পর্যন্ত ভাল থাকুন।

Leave a Comment