উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে 9 টি চমকে উঠার মত তথ্য

উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে 9টি চমকে উঠার মত তথ্য

বর্তমান দুনিয়া থেকে একেবারেই আলাদা একটি দেশ হল উত্তর কোরিয়া। পুরোপুরি স্বৈরশাসনে পর্যুদস্ত এই দেশে এমন সব ঘটনা ঘটে যা হয়ত আপনি চিন্তাও করেন না। এখন আমি আপনাদের জানাচ্ছি উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে চমকে উঠার মত এমনই 9টি তথ্য।

সরকার নিয়ন্ত্রিত চুলের ছাঁট

উত্তর কোরিয়াতে আপনি চাইলেই যে কোন ছাঁটে চুল কাটতে পারবেন না।  সেখানে সরকার কর্তৃক মাত্র ২৮টি চুলের ছাঁট অনুমোদন করা আছে।  মেয়েদের জন্য হরেক রকম চুলের ছাঁট থাকলেও, বিবাহিত নারীদের চুল কাটতে হবে ছোট করে।  ছেলেদের ক্ষেত্রে নিয়ম হল তারা কোনভাবেই তাদের চুল ৫ সেন্টিমিটারের বেশী বড় করতে পারবে না, আবার ২ সেন্টিমিটারের বেশী ছোট করতে পারবে না। তবে বয়স্ক লোকেরা অনুমোদিত ছাঁটে তাদের চুল ৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা রাখতে পারে। তবে বলে রাখা ভাল, স্বৈরশাসক কিম উন জংয়ের চুলের স্টাইল কিন্তু অনুমোদিত ছাঁটে নয়।

অপ্রত্যাশিত ব্যয়ে শিক্ষা গ্রহণ

আমাদের দেশে তো স্কুল কলেজে শুধু মাসিক বেতন দিয়েই পড়ালেখা করা যায়, কিন্তু উত্তর কোরিয়াতে বাচ্চাকে পড়াশোনা করাতে হলে তার স্কুলের ডেস্ক-চেয়ার থেকে শুরু করে সবকিছুর খরচ দিতে হয়, এমনকি স্কুল নির্মাণ আর মেরামতের খরচও যোগাতে হয় তাদের। যারা খরচ দিতে পারেনা সেই সব বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করিয়ে উঠিয়ে নেয়া হয় খরচের টাকা।

পোগাসরি

কিম জং উনের বাবা কিম জং ইলের মনে একদা বাসনা জাগলো, তিনি তার দেশে গডজিলার মত কোন দানবীয় চরিত্রের চলচ্চিত্র বানাবেন। এজন্য তিনি তার গোয়েন্দাদের দিয়ে পাশের দেশ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক শিন শ্যাং ওক’কে সপত্নীক অপহরণ করান। ওই পরিচালক বাধ্য হয়ে ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত দানবীয় চরিত্র কেন্দ্রিক ছবি ‘পোগাসরি’সহ আর ৬টি ছবি নির্মাণ করেন। তবে ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকায় ওই পরিচালক কিম জং এলের কবজা থেকে পালাতে সক্ষম হন।

নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া

উত্তর কোরিয়াতে গণমাধ্যমের কোন রকম স্বাধীনতা নেই। সেখানে গণমাধ্যম ব্যবহৃত হয় শুধুমাত্র প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর কাজে। সেখানে গণমাধ্যমে মানুষের দু:খ দুর্দশার কথা বলা বারণ। টেলিভিশন আর রেডিওতে শুধু কিম উন জংয়ের জয়গান আর নিজ দেশকে মহৎ বলে প্রচার করা হয়। সেখানে মাত্র ৩টি টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। সকল টেলিভিশন, রেডিও, পত্রিকা পুলিশ কর্তৃক নিবন্ধিত ও মনিটরিং করা হয়। তাছাড়া উত্তর কোরিয়াতে বাইরে থেকে কোন ট্রান্সমিশন সিগন্যাল ঢুকতে দেয়া হয়না।

নকল গ্রাম বা ভূতুরে গ্রাম

উত্তর কোরিয়া তাদের বর্ডারে দক্ষিণ কোরিয়ার খুব কাছে শান্তি গ্রাম নামে একটি গ্রাম স্থাপন করেছে। উত্তর কোরিয়ার দাবি করা ছবির মত সুন্দর গ্রামটি ১৯৫০ স্থাপন করা হয়েছে। শুধুমাত্র দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের তাদের দেশে আকর্ষিত করার জন্য। কিন্তু প্রযুক্তির কল্যানে তাদের সব জারিজুরি ফাঁস হয়ে যায়। খুব উচ্চ মাত্রার টেলিস্কোপ ব্যবহার করে দেখা গেছে, উত্তর কোরিয়ার ছবির মত সুন্দর গ্রামটি আসলে কম্পিউটারে আর্ট করা বা ফটোশপ করা। বাস্তবতা হল গ্রামে যে কয়েকটি ভবন রয়েছে সেগুলো খুবই জীর্ণ শীর্ণ আর ওইসব ভবনের জানালায় কাঁচ পর্যন্ত নেই। তাই তো বর্হিবিশ্বে এই গ্রামকে ভূতুরে গ্রাম বলেও ডাকা হয়।

মনুষ্য মলের সার

একটা সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন দান হিসেবে উত্তর কোরিয়াকে সাদা সার দিত। কিন্তু ২০০৮ সালে সেই দান বন্ধ হয়ে গেলে বিপদে পড়ে যায় উত্তর কোরিয়া। এ সময় তারা শস্য উৎপাদনের জন্য বিকল্প সার খুঁজতে থাকে, কিন্তু ভালো কিছু না পেয়ে সহজলভ্য মনুষ্য বর্জ্যক বেঁছে নেয় সার হিসেবে। তারা মানুষের মল সংগ্রহ ও কেনার জন্য দোকান খোলারও ব্যবস্থা করে।

ভিন্ন বছর গণনা

উত্তর কোরিয়াতে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরন করা হয়না, পরিবর্তে তাদের নেতা কিম ইল সাং এর জন্মদিনকে অনুসরণ করে একটি জুসে ক্যালেন্ডার তৈরি করেছে তারা। তাই আপনি যখন ২০১৭ সালে থাকেন, তারা কিন্তু তাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী থাকে। ১০৫ সালে উত্তর কোরিয়ার ক্যালেন্ডার গণনা শুরু হয়েছে ১৯১২ সালের ১৫ই এপ্রিল থেকে। তবে দিন-মাসের হিসেব কিন্তু সেই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আর নতুন এই ক্যালেন্ডার অনুসরন করা শুরু হয় ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। এছাড়া পিয়ংইয়ং টাইম নামে তাদের নিজস্ব টাইম জোনও রয়েছে।

অভিজাত শহর

পিয়ংইয়ং উত্তর কোরিয়ার রাজধানী হলেও এখানে কিন্তু সবার প্রবেশাধিকার নেই। প্রায় ৩০ লাখ লোকের বাস এই শহরে সেখানে শুধুমাত্র ধনী, অভিজাত, সরকারী এবং সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের মানুষরা বসবাসের সুযোগ পায়। শহরের প্রতিটি ঢুকার মুখে প্রহরী বসানো আছে, যেন গরীব কেউ শহরে ঢুকতে না পারে। পিয়ংইয়ং এ গ্রামের তুলনায় খাবারের জোগান কিছুটা বেশী এবং বিদ্যুও কয়েক ঘন্টা বেশী পাওয়া যায়। সেখানে বিদ্যুৎ এতই অপ্রতুল যে শহরের বাইরে বেশীর ভাগ ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগই দেয়া হয়না।

ঘুমের মধ্যে মানুষের সাথে ঘটা অদ্ভূত ১০টি ঘটনা

শোকাহত না হলেই শাস্তি

২০১২ সালে কিম জং ইলের মৃত্যুর পর পুরো দেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সৈন্য, কর্মচারী, বাচ্চা কাচ্চা থেকে শুরু করে দেশের সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। কিন্তু সবার জন্য এই কান্না কিন্তু স্বতস্ফূর্ত ছিল না বেশীর ভাগকে কাঁদতে বাধ্য করা হয়েছিল। কারন ইলের মৃত্যুর জন্য দেশে ১০০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয় এবং সাথে এটাও ঘোষণা করা হয়, ইলের মৃত্যুতে যারা শোকাহত না হবে, কান্নাকাটি না করবে, শাস্তি পেতে হবে তাদের। সেই শান্তি হল ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড।

1 thought on “উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে 9 টি চমকে উঠার মত তথ্য”

  1. Pingback: ঘুমের মধ্যে মানুষের সাথে ঘটা অদ্ভূত ১০টি ঘটনা – Yify Subtitles

Leave a Comment