উত্তর কোরিয়ার ভয়ংকর ১০ অস্ত্র

উত্তর কোরিয়ার ভয়ংকর ১০ অস্ত্র যার জন্য তটস্থ পুরো বিশ্ব। বর্তমানে বিশ্বের যে দেশটি আলোচনার সর্ব শীর্ষে আছে, তার নাম হল উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে বৈরিতার কারণে এই দেশটির দিকে নজর এখন সবার নজর। বলা হচ্ছে কিছু সামরিক উদ্ভাবনই তাদের এই উদ্ধত্যের পেছনে শক্তি জোগাচ্ছে। এখন আমি আপনাদেরকে জানাচ্ছি, উত্তর কোরিয়া উদ্ভাবিত এমনই ১০টি ভয়ংকর অস্ত্রের কথা।

কেএন১১ এবং কেএন১৫

কেএন১১ এবং কেএন ১৫ হচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্রের নাম। এগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হলেও এদের ব্যবহার বিধি কিন্তু ভিন্ন কারন। কেএন১১ হল সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপনযোগ্য, আর কেএন ১৫ হল ভূমি থেকে উৎক্ষেপনযোগ্য ব্যালাস্টিক মিসাইল। দুটি ক্ষেপণাস্ত্রকেই নিজেদের সামরিক প্যারেডে প্রদর্শন করে, পশ্চিমা দুনিয়াকে তটস্থ করতে সক্ষম হয়। আলোচিত এই দেশটি এই ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে আর যে কথাটি না বললেই নয়, সেটি হল এগুলো একেবারে ব্যান্ড নিউ গত বছরই মাত্র সফলভাবে তৈরি করা হয় এগুলো, যা কঠিন জ্বালানী দ্বারা চালিত ২ হাজার কিলোমিটার রেঞ্জের। এই ক্ষেপণাস্ত্র খুব সহজে জাপানের গুয়ামে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম। আর এই ক্ষেপণাস্ত্রের মাথায় যদি নিউক্লিয়ার ওয়্যারহেড লাগানো থাকে। তাহলে তো কথাই নেই।

মুসুদান

মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মুসুদান, হুয়াসং ১০ নামেও পরিচিত। অনেক বছর আগে কিম জং উনের হাতে নেয়া ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কর্ম কৌশলের আওতায় তৈরি হয় এই মুসুদান। ২০১০ সালে উত্তর কোরিয়ার সামরিক প্যারেডে এটি প্রথম প্রদর্শিত হয়। অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞ বলে থাকেন এটি আসলে ছিল একটি রেপ্লিকা। তা সত্বেও উত্তর কোরিয়ার দাবিকে কোনভাবেই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপনযোগ্য রাশিয়ার মিসাইলের নকশা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এটি মুসুদানের মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষা বহু বার ব্যর্থ হয়ে অবশেষে সফলতার মুখ দেখেছে উত্তর কোরিয়া। নিউক্লিয়ার ওয়্যারহেড সহ উৎক্ষেপন যোগ্য ৩ হাজার কিলোমিটার রেঞ্জের এই ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে জাপান, ফিলিপাইন এবং গুয়াম।

সিম্পো ক্লাস সাবমেরিন

ব্যালাস্টিক মিসাইল ছোড়ার জন্য যা সবচেয়ে বেশী দরকার তা হচ্ছে সাবমেরিন। সেই জন্যই উত্তর কোরিয়া তৈরি করে সিম্পো ক্লাস নামের এই সাবমেরিন। নিজেদের সামরিক শক্তি পাকাপোক্ত করতে আবার তাদের প্রতিটি ভূমি উপোযোগী মিসাইলের সাবমেরিন ভার্সনও তৈরি করে রেখেছে উত্তর কোরিয়া। তবে এত কিছু সত্বেও উত্তর কোরিয়া উদ্ভাবিত সাবমেরিনটিতে অনেক টেকনোলজিক্যাল ত্রুটি রয়েছে। কারন এটি সহজে ট্র্যাক করা সম্ভব। তাছাড়া এটি বর্তমান বিশ্বের আধুনিক সাবমেরিনের তুলনায় একেবারেই সেকেলে সেকেলে। এত কিছুর পরও যুদ্ধ বাঁধলে এই সাবমেরিনটিই হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর ভয়ংকর। কারন পারমানবিক যুদ্ধ বাঁধাতে এখান থেকে একটি মিসাইল ছুড়তে পারলেই যথেষ্ট।

প্রাচনী যুগের পৃথিবী বিখ্যাত ৫ নারী শাসক

স্পেশাল ফোর্সেস

আপনি হয়ত ভাবছেন, ভয়ংকর অস্ত্রের মধ্যে স্পেশাল ফোর্সের নাম এল কিভাবে? সত্যি কথা বলতে এদের নাম এই তালিকায় এজন্য আন্তভুক্ত করা হয়েছে। কারন তারা যে শুধু সেনা নয়, তারা হল মানব বোমা, যাদের বলা হচ্ছে স্পেশাল ফোর্সেস। এই স্পেশাল ফোর্সের অধীনে রয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার সক্রিয় সেনাবাহিনীর সদস্য। পৃথিবীর আর কোনো দেশে স্পেশাল ফোর্সের অধীনে এত সামরিক সেনা নেই। তারা সর্বদা সম্মুখ সমরে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে। উত্তর কোরিয়ার স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা একই সাথে ভূমি, ট্যানেল, নৌ পথ এবং আকাশ পথে যুদ্ধেও পারদর্শী। তবে ১৯৯৬ সালের যুদ্ধে তারা চোঁখে পড়ার মত সফলতা দেখাতে পারেনি। বরং বহু সেনা হতাহত হয়েছিল সে সময়। এবং মাত্র দুই ডজন জীবিত সেনা শত্রুপক্ষের হাতে ধরা পড়েছিল।

কেএন-০৯

কেএন-০৯ হল আর্টিলারির জন্য ব্যবহৃত ট্রাক থেকে উৎক্ষেপন যোগ রকেট ল্যাঞ্চার। এগুলো যদিও ব্যালাস্টিক মিসাইল থেকে কিছুটা ছোট, তবে খুবই শক্তিশালী। কেএন-০৯ রকেট ল্যাঞ্চারগুলো তৈরি করা হয়েছে চীন এবং রাশিয়ার রকেট ল্যাঞ্চারের ডিজাইন অনুসরন করে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ৩শ মিলিমিটার ডায়ামিটারের ল্যাঞ্চারগুলো সত্যিই দুর্ধর্ষ। এগুলো ভূমি থেকে ১৯০ কিলোমিটারের বেশী পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। এগুলোর মধ্যে কিছু আবার সিগন্যালের মাধ্যমে দিক পরিবর্তন করতেও সক্ষম। উত্তর কোরিয়ার হাতে বর্তমানে এরকম ১০০টি রকেট ল্যাঞ্চার রয়েছে যেগুলো দিয়ে খুব সহজেই দক্ষিণ কোরিয়াতে আক্রমন করা সম্ভব।

এম ১৯৮৯ ককসন

কেএন-০৯ এর মত এম-১৯৮৯ ককসন উত্তর কোরিয়ার আর্টিলারি ফোর্সের শক্তিশালী একটি অস্ত্র। মুলত এম ১৯৮৯ ককসন হল শক্তিশালী একটি ট্যাংক। ১৭০ ডায়ামিটারের বোমা ছুড়তে সক্ষম এই ট্যাংকটি। বিশাল আকারের এই ট্যাংক থেকে ছোড়া প্রতিটি বোমা ৬০ কিলোমিটারের অধিক পথ পাড়ি দিতে পারে। উত্তর কোরিয়ার হাতে বর্তমানে এমন ৪শ টি ট্যাংক রয়েছে আর এগুলোর বেশীর ভাগ বসানো আছে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তের কাছে। বোমা ছোড়ার পাশাপাশি এসব ট্যাংক থেকে রয়েছে গুলি ছোড়ারও ব্যবস্থা।

ড্রোন

সারা বিশ্ব থেকে বিচ্যুত থেকেও সীমাবদ্ধ সামর্থ্যের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় অজর্ন হল তাদের তৈরি ড্রোন। সাধারন যুদ্ধ বিমানের থেকে কিছুটা ছোট আকারের এই ড্রোন। বেশ ভারী বোমা বহনে সক্ষম। তাই মনুষ্য বিহীন এই বিমান দিয়ে পাশের দেশগুলোতে আক্রমন করা তাদের কাছে একেবারেই ছেলে খেলার ব্যাপার। আর এগুলো দিয়ে যদি পারমানবিক বোমা বহন করা হয়, তাহলে তো এগুলো ধ্বংস করাও যে কোন দেশের জন্য ভয়ংকর হতে পারে। তাছাড়া এগুলো একটানা কয়েক ঘন্টা উড়তে সক্ষম।

পোকপং হো

পোকপং হো হল উত্তর কোরিয়ার আর্টিলারিতে ব্যবহৃত আরেক প্রকারের ট্যাংক। মিস ম্যাস টোকনোলজিতে তৈরি এ ট্যাংক তৈরিতে অনুসরন করা হয়েছে রাশিয়ার টি-৬২, টি-৭২ এবং চাইনিজ ট্যাংকের ডিজাইনকে। এ ট্যাংকের বিশেষত্ব হল, এগুলো থেকে বোমা, গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

কেএন-০৮ এবং কেএন-১৪

কেএন-০৮ এবং কেএন-১৪ হল উত্তর কোরিয়ার গর্বের ধন। কারন এগুলো যে আন্ত:মহাদেশী ক্ষেপণাস্ত্র বা ব্যালাস্টিক মিসাইল। যদিও পশ্চিমা সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারনা এই মিসাইলগুলো এখনও উৎক্ষেপণ উপযোগী করে তৈরি করতে পারেনি উত্তর কোরিয়া। তারা দুইবার এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষায় চালিয়েছিল এবং দুইবারই ব্যর্থ হয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়ার দাবি এটি তৈরিতে তারা সফলতার খুব কাছাকাছি। ২০১২ সালে কেএন-০৮ এবং কেএন-১৪কে প্রথম প্রদর্শিত করা হয় সামরিক প্যারেডে। এটিও ছিল রেপ্লিকা, তবে উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তৈরি করা নিয়ে যে দাবি করছে, তা যদি সত্যি হয় তাহলে নিজ দেশে থেকেই উত্তর আমেরিকায় পারমানবিক বোমা ফেলতে পারবে।

তারা খুব সহজেই কেমিক্যাল ওয়েপন বা রাসায়নিক অস্ত্র, এই মুর্হূতে যদি উত্তর কোরিয়ার হাতে জবরদস্ত কোন অস্ত্র থেকে থাকে সেটা হল তাদের রাসায়নিক অস্ত্র। বর্তমান দুনিয়ায় পারমানবিক বোমার থেকেও রাসায়নিক অস্ত্রকে ভয়ংকর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আর সেটা যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা তো সাম্প্রতিক সিরিয়ার ঘটনা থেকে বিশ্বাবসী কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পেরেছে।

উত্তর কোরিয়ার হাতে এখন ২০ ধরনের রাসায়নিক অস্ত্র রয়েছে। যেগুলো আবার তারা চাইলেই ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে ব্যবহার করতে পারে। অস্ত্রে ব্যবহার্য তাদের উল্লেখযোগ্য রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে রয়েছে ক্লোরিন মাস্টার্ড গ্যাস, সেরিন, ফসজিন এবং ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট। একই ধরনের রাসায়নিক বিষ ব্যবহার করে কিছুদিন আগে মালয়শিয়াতে হত্যা করা হয়েছে কিম উন জংয়ের সৎ ভাইকে।

1 thought on “উত্তর কোরিয়ার ভয়ংকর ১০ অস্ত্র”

  1. Pingback: বিশ্বের ৯ আজব ও অমিমাংসিত রহস্য – Yify Subtitles

Leave a Comment